রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

| ২৮ আষাঢ় ১৪৩১

এফবিসিসিআই এর আবাসনখাতে কালো টাকার বিনিয়োগের দাবী

ষ্টাফ রিপোর্টার

এফবিসিসিআই এর আবাসনখাতে কালো টাকার বিনিয়োগের দাবী

৫ থেকে ১০ বছরের জন্য বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট কিনে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রাখার দাবি করেছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।  

ব্যবসায়িদের শীর্ষ এই সংগঠনটি মনে করে, ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণিবিতানে বিনিয়োগের জন্য বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন। আগামী ১০ বছর পর্যন্ত এ সুবিধা রাখা হলে দেশে এ–জাতীয় সম্পদ ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে। 

একই সাথে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে ব্যক্তি শ্রেণির আয়করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা করার কথাও বলেছে এফবিসিসিআই।
 বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪৩তম সভায় এ দাবি জানায় এফবিসিসিআই।

আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা আগামীতে এমনভাবে বাজেট প্রণয়ন করবো যাতে কোনো ধরনের ঋণ নেওয়া না লাগে। বাজেট হবে এমন যেন ঋণের প্রয়োজন না হয়, আগামীতে আর ঋণ নেবো না।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালনা পর্ষদ, বিভিন্ন সেক্টরের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী নেতা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ধীরে ধীরে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যেখানে সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ২০৪১ সালের স্বপ্নের সিঁড়িতে আছি। আসন্ন বাজেট হবে জনবান্ধন, এ বাজেটটি হবে জনগণের সুবিধার্থে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে নারী ও সিনিয়র নাগরিকদের জন্য সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করে।

ব্যবসায়ী এ সংগঠনটি প্রস্তাবে জানায়, পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে আমদানি করা উপকরণের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ আগাম কর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের দাবি জানাই। আগাম করের ফলে শিল্প উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় বলেও জানায় এফবিসিসিআই।

জসিম উদ্দিন বলেন, শিল্প পরিচালনার ব্যয় কমানোর জন্য আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়করের (এআইটি) হার ধাপে ধাপে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি, যেটি বর্তমানে ৫ শতাংশ। অগ্রিম আয়করের হার আগে ৩ শতাংশ ছিল।

তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে নারী ও সিনিয়র নাগরিকদের জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন তিনি। আয়কর আইনের মৌলিক বিষয়গুলো আবশ্যিকভাবে আন্তর্জাতিক ও দেশের বিনিয়োগ চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে যুগোপযোগী আয়কর আইন প্রণয়ন করার কথা বলা হয়।

আসন্ন বাজেট সামনে রেখে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- শুল্কায়ন, পণ্য খালাস এবং সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ত্বরান্বিত করার জন্য অনলাইন প্রক্রিয়াসহ ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা। উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে আরোপিত সব ধরনের শুল্ক ও কর এবং খালাস প্রক্রিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যকর এবং জোরদার করে ফাঁকি দেওয়া কর আদায়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে নিয়মিত স্কেলের বেতন ভাতাদির অতিরিক্ত হিসেবে কর কর্মকর্তাকে পুরস্কার দেওয়ার বিধান বাতিল করার দাবি জানানো হয়। এতে কর আদায়ে হয়রানি বন্ধ হবে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। রাজস্ব আহরণ এবং রাজস্ব পলিসি কার্যক্রম পৃথক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিভাগ গঠন করা।

উৎপাদনশীল, রপ্তানিমুখী গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র শিল্পসহ নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাতভিত্তিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলিকে যৌথ ব্যবস্থাপনায় বন্ডেড ওয়্যার হাউজ এবং বিতরণ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ই-কমার্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষম করা। রপ্তানি বৃদ্ধির সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সব রপ্তানি ও শিল্প খাতে করমুক্ত রেয়াতি হারে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি সরবরাহের প্রস্তাব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

দেশের আবাসন খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট কিনে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রাখা দরকার বলে মনে করে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল আছে। এফবিসিসিআই এ সুবিধা ন্যূনতম আরও পাঁচ বছর বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে।

এফবিসিসিআই বলছে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না।

এ বাস্তবতায় অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে বিনিয়োগকারীরা করজালের আওতায় চলে আসবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

আর এ